
মিঠাপুকুরে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, অভিযুক্তকে শিবির নেতা দাবি করে অপপ্রচারের অভিযোগ
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের তনকায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাশিক্ষক রেদোয়ানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রেদোয়ানকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের বিরুদ্ধে।
তবে অভিযুক্ত রেদোয়ান ছাত্রশিবিরের কোনো পর্যায়ের সংগঠক বা জনশক্তি নন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির স্থানীয় নেতারা।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মিঠাপুকুর প্রোপার সাংগঠনিক থানা সভাপতি আল আমিন হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযুক্ত রেদোয়ান ছাত্রশিবিরের সমর্থক, কর্মী, সাথী কিংবা সদস্য—কোনোটিই নন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিপক্ষ মতের লোকজন রেদোয়ানকে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
আল আমিন হাসান বলেন, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মিঠাপুকুর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি জনসভায় রেদোয়ান উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তিনি ছাত্রশিবিরের নাম ও লোগোযুক্ত একটি ব্যাজ মাথায় পরেছিলেন এবং ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। বর্তমানে ওই ছবিকেই ব্যবহার করে রেদোয়ানকে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “কোনো পাবলিক সমাবেশে কেউ ছাত্রশিবিরের নাম ও লোগোযুক্ত ব্যাজ পরে ছবি তুললেই তাকে সংগঠনের নেতা বা জনশক্তি হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। ছাত্রশিবিরের নেতা বা জনশক্তি হতে হলে সংগঠনের নির্ধারিত নিয়ম-শৃঙ্খলা অনুসরণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে সক্রিয় থাকতে হয়।” তার দাবি, ‘অভিযুক্ত রেদোয়ান কখনোই ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।’
অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই -এমন দাবি করে আল আমিন হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেদোয়ানকে শিবির নেতা হিসেবে প্রচারের ঘটনাকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এদিকে, মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃত্ব। আল আমিন হাসান বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রতি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে বলাৎকারের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত রেদোয়ানের বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা সমীচীন নয়।
Leave a Reply