
আবু রায়হান, স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার তুলারামপুর গ্রামে ওয়াক্তিয়া মসজিদ সংস্কার ও গ্রামীণ সড়কে ইটের সলিং নির্মাণে সরকারি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্য মাওলানা মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে ‘অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এটি কোনো স্বজনপ্রীতির ঘটনা নয়; বরং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় পীরগঞ্জ উপজেলার তুলারামপুর (উত্তরপাড়া) এলাকায় গ্রামবাসীর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে গ্রামবাসী বলেন, উত্তরপাড়ার ওয়াক্তিয়া মসজিদের নামাজঘর নির্মাণ শেষ হলেও সামনের জায়গা নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে থাকে। ফলে মুসল্লিদের চলাচল, জানাজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন ব্যাহত হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংসদ সদস্যের কাছে সহযোগিতা চাইলে তিনি কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের সুপারিশ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেই বরাদ্দ অনুমোদিত হয়।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, সরকারি বিধি অনুযায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির দায়িত্ব পান। সেই নিয়মেই মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গ্রামের একটি কাঁচা সড়কে ইটের সলিং নির্মাণের জন্য ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলমান দুই প্রকল্পেই কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী আরও দাবি করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি থেকে মাত্র দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তুলারামপুর গ্রাম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। তাদের অভিযোগ, ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও ওই সময়ে এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু মাওলানা মো. নুরুল আমিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গ্রামের মসজিদ, সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী সংসদ সদস্যের এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, গ্রামের আরও অনেক উন্নয়নকাজ এখনো বাকি রয়েছে। প্রধান সড়ক পাকাকরণ, জামে মসজিদের সিঁড়ি ও টাইলস নির্মাণ, ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণ এবং সামাজিক কবরস্থানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্যের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং এলাকায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব প্রচারণা বন্ধ করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান গ্রামবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, “মাওলানা নুরুল আমিন আমাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা চাই তিনি আমাদের এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখুন। কোনো ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে এলাকার মানুষের পাশে থেকে চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে গ্রামবাসী বলেন, উন্নয়নকে বিতর্কিত না করে বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয়।
Leave a Reply