1. mahmudunnabiatik@gmail.com : ATIK : Md. Mahmudunnabi Atik
  2. rafyeej172@gmail.com : Md. Abdul Rabbi : Md. Abdul Rabbi
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন

ইসির পোস্টাল ব্যালটে থাকছে না ঘোষণাপত্র ও অতিরিক্ত খাম

  • তারিখ : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পোস্টাল ব্যালটসংক্রান্ত প্রণীত বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিবর্তনগুলোর অন্যতম হচ্ছে- ভোটারের ঘোষণাপত্র বা অঙ্গীকারনামা, যা ভোটারের ভোটের গোপনীয়তাকে চরমভাবে লঙ্ঘনে সহায়ক ছিল। এছাড়া একাধিক খামের প্রভিশনও তুলে দেওয়া হচ্ছে। মূলত বিধিমালায় সংশোধন এনে এ দুটি বিধান বাদ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। ইসি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, একজন ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দিলেন নির্বাচন কমিশনের অগোচরে তা প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে। কারণ কমিশনের নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত সবাই (কর্মকর্তা-কর্মচারী) ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। একজন ভোটারের আমানত ওই সব বহিরাগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ভোটগণনার আগ পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখা হয়। এসব ব্যক্তির মধ্যে যে কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে গোপনে প্রতীকে সিল সংবলিত ব্যালট ও ঘোষণাপত্রের ব্যালট নম্বর ক্যামেরাবন্দি করলে সহজেই সংশ্লিষ্ট ভোটার কোন দল বা ব্যক্তিকে ভোট দিয়েছেন তা চিহ্নিত করা সম্ভব। এ কারণে ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষা করা নিয়ে ভোটের আগেই সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ে ইসি বিষয়টি খুব একটা আমলে নেয়নি। উল্টো দৃঢ়ভাবে তারা জানিয়েছিল, ভোটারের গোপনীয়তা তারা শতভাগ সমুন্নত রাখবেন। এই ঘোষণার পরও অনেকেই আশ্বস্ত হতে পারেননি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আমার দেশকে বলেন, নিবন্ধনের পর একজন ভোটারকে আমরা যে পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়ে থাকি, সেখানে একটি ঘোষণাপত্র থাকে। পদ্ধতিটি বাদ দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এটার প্রয়োজন নেই। কারণ একজন ভোটার তার মুখচ্ছবি দিয়েই ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। ভোটারের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিধানটি বাদ দিতে চাইছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না’ তেমনটি নয়। তিনি আরো বলেন, শুধু ঘোষণাপত্র নয়; একাধিক খাম পাঠানো হয়, সেটিতেও কাটছাঁট করা হচ্ছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ ভোটার ও পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান দুটির ধরনে ভিন্নতা রয়েছে। নিবন্ধন করার পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে একজন ভোটারকে ব্যালট পাঠানো হয়। সেখানে বাড়তি একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। সেটি হচ্ছে, অঙ্গীকারনামা বা ঘোষণাপত্র। পোস্টাল ব্যালট নম্বর ও এনআইডির নম্বর থাকে ঘোষণাপত্রে। এই ঘোষণাপত্র দেখে বোঝা যায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন প্রতীকে বা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। অথচ সাধারণ ব্যালটে একজন ভোটার গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিয়ে সেটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলেন। এতে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা হয়। কিন্তু পোস্টাল ব্যালট নম্বরটি ঘোষণাপত্রে থাকে। পোস্টাল খামটি খোলার পর ব্যালট ও ঘোষণাপত্র আলাদা করা হয়। এরপরও ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। ঝুঁকি থেকে যায়। নির্বাচনের আগে এ নিয়ে আলোচনা হলেও কমিশন তা আমলে নেয়নি। নিশ্চয়ই ভোটে কোন ঝামেলা হয়েছে, যা প্রকাশ করছে না ইসি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষণাপত্রের অপশনটি বাদ দেওয়ার চিন্তা করছে। এটা ইতিবাচক বলে জানান তারা। একটি পোস্টাল ব্যালটে পাঠাতে তিনটি খাম পাঠাতে হয়। ঘোষণাপত্র না থাকলে দুটি খামেই কাজ শেষ হবে বলে জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমার দেশকে বলেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশে ঝামেলা হয়েছে। সেটা সবাই আপনারা দেখেছেন। এতেই তো ভোটের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে, ঘোষণাপত্র বাদ দেওয়ার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, পোস্টাল ব্যালটে ঘোষণাপত্র ছিল একটি ‘অবান্তর’ বিষয়, যা ভোটারের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি বাড়িয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
স্বত্ব © ২০২৬ রংপুর ভয়েস
Designed By ATIK